এই রোজায় শক্তি পেতে যে ৮টি ফলের জুস খেতে হবে

99

প্রবাদে বলা হয়—‘যখন আপনি ক্ষুধার্থ, জুস বা রস খান। যখন তৃষ্ণার্ত তখনো রস খান।’ এই একটি বাক্য থেকেই আমরা জুস বা রসের উপকারিতা বুঝতে পারি। ফল ও সবজির তাজা রস দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে দেহে শক্তি বাড়ায়। তাই রমজানে যেকোনো প্রকার জুস আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

রমজানে দেহের পানিশূন্যতা সৃষ্টির যে আশঙ্কা থাকে, তা প্রতিরোধে ফলের জুসের জুড়ি নেই। তাই সুস্থ শরীরে রোজা পালনের জন্য প্রতিদিনের সেহরি ও ইফতারের খাদ্যতালিকায় কমপক্ষে একটি ফলের জুস খাওয়া উচিত।

১. তরমুজের জুস

তরমুজে ৯২% পানি যা শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যামিনো অ্যাসিড। এর মূল উপাদান পানি ও চিনি। এ ছাড়া আরো রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম। এরা একযোগে দেহে পানিশূন্যতা রোধে কাজ করে। তাই ইফতারে তরমুজের জুস আপনার সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে দেহে আনবে সতেজতা।

২. কমলার জুস

দেহে পানির ঘাটতি পূরণের মাত্রা ৮৭ ভাগ। এটি স্বাদে মিষ্টি এবং দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণের ক্ষমতা শতভাগের চেয়েও বেশি। ইফতারে কমলার জুস খেলে আপনি ভিটামিন সি এর পাশাপাশি পাবেন ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, মিনারেল ও ফাইটোকেমিক্যাল।

৩. জামের জুস

পাকা জাম খেতে বেশ মিষ্টি এবং মুখরোচক। সামান্য পাকা অথবা পুরো পাকা না হলেও অম্ল, মধুর এবং কষায় রস বলে অনুভব হয়। এটি ভিটামিন সি-তে পূর্ণ। জামের জুস আমাদের ধমনীগাত্রকে পরিষ্কার রাখে এবং রক্তে চিনির পরিমাণ স্বাভাবিক করে। তাই ইফতারে জামের জুস আপনাকে দেবে প্রশান্তি।

৪. ডুমুরের জুস

ডুমুর এক ধরনের নরম ও মিষ্টিজাতীয় ফল। এটি ‘আঞ্জির’ নামেই বেশি পরিচিত। পাকা ডুমুর বেশ রসালো এবং মিষ্টি স্বাদযুক্ত। রমজানে পাকা ডুমুরের জুস বেশ আরামদায়ক পানীয়। ডুমুর রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে, পরিপাক ক্রিয়া উন্নত করে এবং অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

৫. আঙুরের জুস

ইফতারে আরামের পানীয় ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা মজার আঙুরের জুস। এতে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রার রিজভেরাট্রল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখে। এই রমজানে রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখার জন্য আঙুরের জুস খাওয়া খুবই প্রয়োজন।

৬. জাম্বুরার জুস

জাম্বুরা বা বাতাবী লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। তাই ইফতারে জাম্বুরার জুস খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। জাম্বুরা ক্ষুধাও কমিয়ে দেয়। ফলে রোজা রাখতে কষ্ট কম হয়। তাছাড়া ৯০ ভাগ পানিশূন্যতা রোধ করে। এর লিমোনোইড্স নামক উপাদান দেহের বিষাক্ত উপাদানগুলো দূর করে ক্যানসারের টিউমারকে প্রতিরোধ করে।

৭. ডাবের পানি

সারাদিনের উপোসের পরে সঠিক উপাদানের খাবার ও পানীয় পান না করলে স্বাস্থ্যহানী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় না খেলে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। তাই প্রতিদিনের ইফতারে রাখা উচিত কোনোনা কোনো পানীয়। তবে সব পানীয়ে ভরসা রাখা দায়। এই কারণে আপনি নিশ্চিন্তে ইফতারিতে রাখতে পারেন ডাবের পানি। পানিশূন্যতা রোধের মাত্রা ৯৫ ভাগ। এতে নিম্ন মাত্রায় সোডিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এই পানি আমাদের দেহে সতেজ অনুভূতির সৃষ্টি করে।

৮. আমের জুস

আপনার ইফতারকে আরো আনন্দময় করতে অনায়াসে খেতে পারেন যত ইচ্ছা পাকা আমের জুস। এতে অ্যাসিডিটি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই জুস ভিটামিন এ, বি৬ ও সি-এর উৎকৃষ্ট উৎস। এ ছাড়া এই জুস থেকে খাদ্য আঁশও পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের ইফতারে রাখুন এক গ্লাস পাকা আমের জুস।

ফলের জুস বানানোর স্বাভাবিক নিয়ম হলো রসের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশ্রিত করা। অনেকে এই পানি মিশ্রিত জুস স্বাদ পছন্দ করেন না। সে ক্ষেত্রে জুস খাওয়ার ঠিক আগে সমপরিমাণ পানি গ্রহণ করলে একই রকম উপকারিতা পাওয়া যায়। তাজা ফলের জুস বিভিন্ন রকম অ্যানজাইম ও ভিটামিনের ধারক। তবে জুস তৈরি করা মাত্র খাওয়া না হলে এর পুষ্টিমান কমে যায়। যেকোনো জুস যখন কার্টন, ক্যান অথবা বোতলে সংরক্ষণ করা হয় অথবা উষ্ণ ও শীতল বায়ু দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন আর একে তাজা হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাই জুস থেকে সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে বাসায় জুসার ব্যবহার করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here