Home বাংলাদেশ ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত শতাধিক

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত শতাধিক

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ঝিগাতলা এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদর ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শনিবার ছাত্রলীগ-যুবলীগের মারাত্মক হামলার প্রতিবাদে রোববার (৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে ঝিগাতলা এলাকায় গেলে তাদের ওপর আবারও একই ধরনের হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যারয় শিক্ষার্থীরা। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ অন্তত ১৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে।

বর্তমান ধানমণ্ডির ১ ও ২ নম্বর সড়ক থেকে ঝিগাতলা পর্যন্ত সড়কে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। অন্যদিকে সায়েন্সল্যাব-ঢাকা কলেজ-মিরপুর রোড এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই হেলমেট পরা। প্রায় সবার হাতে লাঠি ও রড রয়েছে। কারও কারও হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছ বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় শিক্ষার্থীর। তারা বেসরকারি নাগরিক টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুরসহ বেশ কয়েকজন ফটোসাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এরমধ্যে বার্তা সংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক এম এন আহাদকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ হাসপাতালের সামনে থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নাগরিক টেলিভিশনের আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ সাফি তার ফেসবুক ওয়ালে করা পোষ্টে জানান, গাড়ির ভেতরে বসে শুধু দেখতেছিলাম। সিটি কলেজের সামনে চলতি গাড়ির উপর কিল, ঘুষি, ইট পাথর, বাঁশের লাঠি, হকিষ্টক….ধুমধাম ঠরাস ঠরাস কাচের ভাঙচুর, সে এক পৈশাচিক আনন্দ শিক্ষার্থীদের!

মাথা মুখে হাত রেখে কোন রকম নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা। কিছু বলারও সুযোগ নেই। ভাঙ্গা শেষে তারা আমাদেরকে নামিয়ে গাড়িতে আগুন ধরাতে চাইলে কয়েকজন বাধা দেয়। তাদের অভিযো্গ গতকাল গুজব কেন মিডিয়া প্রচার করেনি? মাথায় হাত দিয়ে সরি বলে তাদের আবেদন, নিউজ করার সময় যেন বলি, শিক্ষার্থীরা নয় ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ।

জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিটি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সংঘর্ঘে জড়ালে তা পুরো ২ নম্বর সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ১ নম্বর সড়কেও এটি বিস্তৃত হয়। পরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের একদল নেতাকর্মী এসে সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার মুখে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী পপুলার হাসপাতালে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে ঢুকেও তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে সংঘর্ষ পুরো সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ঝিগাতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের একদল নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে থাকেন। ওই সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশেরও উপস্থিতি দেখা যায়। পরে বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষিপ্তভাবে ওই এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ থেকে ঢাকা সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজসহ বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী যোগ দেন। পরে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ঝিগাতলা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হন। দুপুর ১টার দিকে মিছিলটি ঝিগাতলায় পৌঁছলে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতি কার্যালয়ের চারপাশে অবস্থানরত পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ওই কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে অনেক শিক্ষার্থী ধানমণ্ডি লেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন লেকের পাড়ে অবস্থান নিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ও ঢিল ছোড়ে। সেখান থেকে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এর সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ে। তাদের হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার ও অন্তত চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তারা আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের অনেকেই হেলমেট পরে এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। তাদের টানা সপ্তম দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল শনিবার। এদিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে জিগাতলা এলাকায় স্থানীয় চারটি কলেজের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে হঠাৎ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কিছু ক্যাডার হামলা চালায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সুযোগে একটি সুযোগ সন্ধানী পক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছে গুজব রটিয়ে দেয় ধানমন্ডি ৩/এ সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চার শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে নিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে, একজনের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও চার জন ছাত্রীকে সেখানে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তাৎক্ষণিকভাবে নওশাবা নামের একজন অভিনেত্রীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি গুজবটি আরও রঙ চড়িয়ে ছড়িয়ে দেয়ায় দেশজুড়ে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে সায়েন্স ল্যাব-জিগাতলা এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা তুমুল ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে রওনা দিয়ে ভবনটিতে ঢিল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্ব নেয়া সাধারণ সম্পাদকের মধ্যস্থতায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী আওয়ামী লীগ কার্যালয় ঘুরে এসে সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেখানে কেউ নেই। তাদের এই ঘোষণার পর গুজবটির অবসান ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যায়।

সূত্রঃ মানবকণ্ঠ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here