Home রাজনীতি আবারও সেনা মোতায়েন দাবি বুলবুলের, লিটনের না

আবারও সেনা মোতায়েন দাবি বুলবুলের, লিটনের না

শেষ দিকে জমে উঠছে নির্বাচনী প্রচারণা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রচারের আর মাত্র ২ দিন বাকি। শনিবারের পর বন্ধ হয়ে যাবে সব ধরনের প্রচার প্রচারণা। তাই একেবারে শেষ মুহুর্তের প্রচাণায় বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠে রাজশাহীর ভোটের মাঠ। মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রচারের পাশাপাশি উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে সর্বত্র। নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে ভোটের মাঠে। নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী শনিবার দিনভর প্রচারে মাঠে থাকতে পারবেন প্রার্থীরা। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে সব ধরনের প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে তাই ভোট উৎসবের পাশাপাশি উত্তেজনাও বিরাজ করছে সর্বত্র।
এ অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলছেন, রাজশাহীতে ভোটের মাঠ স্বাভাবিক আছে। মানুষ উৎসব মুখর। এখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও লিটন বলেন, রাজশাহীবাসী শান্তিপ্রিয়। এখানে সুষ্ঠু পরিবেশেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। এখানে সেনা মোতায়েনের দাবি অযৌক্তিক। সাধারণ ভোটাররাও বলছেন রাজশাহীতে সেনা মোতায়েনের মত কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

বুলবুলের দাবি সেনা মোতায়েন : এদিকে নির্বাচন কমিশনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে এবার রাজশাহীতে সেনা মোতায়েনের দাবি করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সেনাবাহিনী ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বেলা ১১টায় নগরীর মালোপাড়াস্থ বিএনপি অফিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে এ দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর পক্ষপাতিত্বেরও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে এখন থেকেই রাজশাহী সিটিতে সেনা মোতায়েন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বুলবুল অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২৯টি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙের অভিযোগ ইসিতে দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আ’লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত ব্যয়ের চাইতে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে নৌকা প্রতীকে পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন টানানো হয়। অভিযোগ জানানোর পরেও নির্বাচন কমিশন কিছু জানে না বলে মিথ্যাচার করছে। গত ২২ জুলাই নির্বাচন কমিশন বড় মাপের সব ব্যানার ও ফেস্টুন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তা অপসারণ করেননি।
আওয়ামী লীগকে জনবিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে বুলবুল বলেন, রাজশাহীর কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপির তিনটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। আমাদের প্রচারে বাঁধা দান, কর্মীদেরকে মারধর এবং প্রচার কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে।
এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে জেএমবি ও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলাতেও জড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে গ্রেফতার বিএনপির নেতাকর্মীদর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান হয়।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার বিএনপি উল্লেখ করে বুলবুল আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আদেশ লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীদের যোগসাজসে পুলিশ প্রশাসন গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এই গ্রেফতার অভিযানে এ পর্যন্ত বিএনপির প্রায় ১৫০ জন নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টকে অন্যায় ও অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজশাহী সিটি নির্বাচনকে ঘিরে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য কোন আদেশ এখন পর্যন্ত জারি করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, শাহজাহান মিয়া, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।
সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে উন্নয়ন হবে না-লিটন : আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘২০১৩ সালের নির্বাচনে ভুল করে হোক বা আশা নিয়ে হোক মানুষ বিএনপির প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু তার ফলে কী হলো, রাজশাহী পিছিয়ে গেলো। কোনো উন্নয়ন হলো না। এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন রাজশাহীবাসীর জন্যে অগ্নিপরীক্ষা। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে উন্নয়ন হবে না।’
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপির মেয়র বুলবুল গত ৫ বছর রাজশাহীর উন্নয়নের কথা না ভেবে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যস্ত ছিল। এবারো নির্বাচনী ইশতেহারে উন্নয়ন নয়, আছে আন্দোলনের হুমকি।
খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, ৫ বছর সারাদেশ এগিয়ে গেলো। দেশের উন্নয়ন করে সারা বিশ্বে সুনাম পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর আমরা সেই অংশীদার হতে পারলাম না, পিছিয়ে গেলাম। রাজশাহীর মানুষ আর পিছিয়ে যেতে চায় না, উন্নয়ন চায়। নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থান হবে, ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালদা কলোনী থেকে গণসংযোগ শুরু করেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর মথুরডাঙ্গা ও মালদা কলোনী বউবাজারে গণসংযোগ করেন তিনি। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট চান তিনি। খায়রুজ্জামান লিটনের গণসংযোগের সময় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। পরে মালদা কলোনী বউবাজারে পথসভা করেন খায়রুজ্জামান লিটন।
প্রচারে নেমে বুলবুলের হুশিয়ারি : বৃহস্পতিবার বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সপুরা, বিসিক এলাকা, আলিফ লাম-মীম ভাটা এলাকাসহ ওয়ার্ড সমূহের সব পাড়া মহল্লায় গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি রাজপাড়া থানা পার্টি অফিস থেকে গণসংযোগ শুরু করেন।
গণসংযোগকালে বুলবুল অভিযোগ করেন, ভোটের দৌঁড়ে পিছেয়ে থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য সরকার দলীয় প্রার্থী জালিয়াতি, কারচুপি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। ইতোমধ্যে সরকার দলীয় প্রার্থী অন্যান্য জেলা থেকে ৪০-৪৫ হাজার সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজশাহীতে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজশাহীর মাটিতে কোন রকম বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চাইলে জবাব দেওয়া হবে। বুলবুল বলেন, রাজশাহী শান্তির শহর। এখানে কোন ধরনের অশান্তি কাউকে সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।
মুরাদ মোর্শেদের প্রচারণা : এদিকে বৃহস্পতিরার নগরীতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলন সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ। গণসংযোগকালে ভোটাররা তাদের নানান সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরলে নির্বাচনের পর সবার সহযোগিতায় সেসব সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন মুরাদ মোর্শেদ। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, বহুমূখীশ্রমজীবি হকার সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বাচ্চু ভূঁইয়া, শ্রমিক নেতা দীপক রায়, গণসংহতি আন্দোলনের মতিহার থানার নেতা হাসিবুল রেজা, হাসান আহমেদ, পান্নাসহ মুরাদ মোর্শেদের সমর্থকরা গণসংযোগে অংশ নেন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here