Home খেলা বিশ্বকাপের সেরা উপহার ভিএআর

বিশ্বকাপের সেরা উপহার ভিএআর

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে বলে রক্ষা। না হলে প্রথম পর্বের ৪৮ ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের আলোচিত ঘটনার তালিকা করতে গেলে সবার আগে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) জায়গা হতো। রাশিয়া বিশ্বকাপে বিতর্কেই যেন ঘরবসতি ভিএআরের, নতুন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগও কম নেই। ফিফা অবশ্য এসব অভিযোগে তেমন গা করছে না। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির রেফারিং কমিটি ‘অপবাদমুক্ত’ থেকে প্রথম পর্ব শেষ করতে পেরেই খুশি। প্রথম পর্বে ভিএআরের সাহায্যে রেফারিদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ৯৯.৩ শতাংশই সঠিক বলে জানিয়েছে ফিফা।

রাশিয়া বিশ্বকাপেই ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অভিষেক ভিএআরের। সংশয়বাদীদের আশঙ্কা সত্যি প্রমাণ করে তা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরানের কোচ কার্লোস কুইরোজ কাঠগড়ায় উঠিয়েছেন ভিএআরকে। কোন সিদ্ধান্তটা ভিএআরে যাবে আর কোনটি যাবে না, তা কীভাবে নির্ধারিত হয় তা-ও জানতে চেয়েছেন অনেকে। ঘিরে ধরা এসব বিতর্কের মধ্যেই পরশু প্রথম পর্ব শেষে ভিএআর নিয়ে তথ্য-উপাত্ত, নিজেদের পর্যালোচনা গত পরশু সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছে ফিফার রেফারিং কমিটি।

সেখানেই ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, মাঠে রেফারিদের শতকরা ৯৫ ভাগ সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। ভিএআরের সাহায্য নেওয়ায় পরে যা ৯৯.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানে তৃপ্তিই ঝরল কলিনার কণ্ঠে, ‘এটা (সঠিক সিদ্ধান্তের হার) শতভাগ হলেই বেশি খুশি হতাম। কিন্তু ৯৯.৩ শতাংশ মানে নিখুঁতের খুব কাছাকাছি।’ কলিনা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩৩৫টি ঘটনা যাচাইয়ের জন্য রেফারি ভিএআরের সহায়তা নিয়েছেন। যার মধ্যে ১৭টি ঘটনা রিভিউ করেছেন রেফারিরা। যার ১৪টি রেফারি নিজেই মাঠে রিভিউ করেছেন। আর বাকি তিনটি ঘটনা ভিএআর রিভিউ করে রেফারিকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। একটি ভিএআর রিভিউয়ের জন্য গড়ে সময় লেগেছে ৮০ সেকেন্ড।

কিন্তু ভিএআর কি আসলেই প্রায় শতভাগ নিখুঁত ছিল? পর্তুগালের বিপক্ষে সেদ্রিক সোয়ারেসের হাতে বল লাগায় ইরানকে দেওয়া পেনাল্টি, আবার একই ধরনের ঘটনায় নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচে রোহোর বিপক্ষে পেনাল্টি না দেওয়া, সুইজারল্যান্ড-ব্রাজিল ম্যাচে স্টিভেন জুবের হেডে গোল করার আগে মিরান্দাকে ধাক্কা দিলেন, সেসবের কী হবে। ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান নিজের দিকে ধেয়ে যাওয়া প্রশ্নবাণ এড়িয়ে গেছেন কৌশলে, ‘এটা খুব মজার যে আপনারা ভুল হওয়া ০.৭ শতাংশ সিদ্ধান্ত নিয়েই বেশি প্রশ্ন করছেন। অথচ সঠিক হওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাদের আগ্রহ কম!’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here